প্যারালাইজড হয়ে গেছেন প্রিন্স মুসা

প্রিন্স মুসা

ব্যবসায়ী প্রিন্স মুসা বিন শমসেরের বাকশক্তি লোপ পেয়েছে এবং তিনি আংশিক পক্ষাঘাতগ্রস্ত (প্যারালাইজড) বলে জানা গেছে। আজ বুধবার শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের কাছে দেওয়া এক চিঠিতে তিনি এ কথা জানান। চিঠির সঙ্গে তিনি চিকিৎসার সনদও জমা দিয়েছেন।

এ ব্যাপারে রাত পৌনে ১০টার দিকে কিছু শুল্ক গোয়েন্দা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মইনুল ইসলাম খান এনটিভি অনলাইনকে বলেন, আজ বিকেলে তাঁরা চিঠিটি পেয়েছেন। আগামীকাল বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টায় শুল্ক গোয়েন্দা অধিদপ্তরে এসে উপস্থিত হওয়ার কথা ছিল তাঁর। কিন্তু যেহেতু তিনি চিঠি পাঠিয়েছেন এবং শারীরিক অসুস্থতার কথা জানিয়ে কাগজপত্র পাঠিয়েছেন। পরে এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

সংবাদ মাধ্যমের কাছে আসা চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, মুসা বিন শমসেরের মুখের একপাশ পক্ষাঘাতগ্রস্ত। তাঁর বাকশক্তি মারাত্মকভাবে লোপ পেয়েছে। তিনি সঠিকভাবে কথা বলতে পারছেন না। সে কারণে তিনি শারীরিক ও মানসিকভাবে ভীষণ পর্যুদস্ত।

চিঠিতে আরো বলা হয়েছে, চিকিৎসক মুসা বিন শমসেরকে দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা নিতে পরামর্শ দিয়েছেন এবং বিশ্রাম নিতে বলেছেন। সে কারণে শুল্ক গোয়েন্দা তদন্ত দলের সামনে সশরীরে হাজির হতে তিন মাস সময় প্রার্থনা করেন শমসের।

শুল্ক গোয়েন্দা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বলেন, অসুস্থতার কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করা হবে। এরপর সময় প্রার্থনার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

জানা গেছে, একটি বিলাসবহুল গাড়ির শুল্ক ফাঁকি ও মানি লন্ডারিং সংক্রান্ত তদন্তের সূত্রে আগামীকাল মুসা বিন শমসেরের শুল্ক গোয়েন্দা দপ্তরে হাজির হওয়ার কথা ছিল। শুল্ক ফাঁকি দেওয়ার অভিযোগে গত ২১ মার্চ ধনকুবের প্রিন্স মুসা বিন শমসেরের ব্যবহৃত একটি কালো বিলাসবহুল রেঞ্জ রোভার গাড়ি আটক করেন শুল্ক গোয়েন্দারা।

শুল্ক গোয়েন্দা কর্তৃপক্ষ জানায়, গাড়িটি ভুয়া আমদানি দলিলাদি দিয়ে ভোলা ঘ ১১-০০-৩৫ হিসেবে রেজিস্ট্রেশন নেওয়া হয়েছিল। কাগজপত্র যাচাই করে দেখা যায়, চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের বিল অব এন্ট্রি ১০৪৫৯১১ তারিখ ১৩/১২/২০১১-এ ১৩০ শতাংশ শুল্ক দিয়ে ভোলা থেকে রেজিস্ট্রেশন গ্রহণ করা হয়। এ ছাড়া রেজিস্ট্রেশনে গাড়িটির রং সাদা উল্লেখ থাকলেও উদ্ধার করা গাড়িটি কালো রঙের। কাস্টম হাউসের নথি যাচাই করে এই বিল অব এন্ট্রি ভুয়া হিসেবে প্রমাণ পাওয়া যায়।