পাসপোর্ট রিনিউ কর‍বেন কিভাবে, জেনে নিন

পাসপোর্ট রিনিউ করার জন্য যাবতীয় তথ্য ও পাসপোস্ট রিনিউ করার সবচেয়ে সহজ উপায় নিয়েই আজকের বিশেষ এই পোস্ট !

কিভাবে রিনিউ করবেন আপনার পাসপোর্ট ? বিস্তারিত পড়ে জেনে নিন।

স্থানঃ পাসপোর্ট অফিস,আগারগাও, ঢাকা।

আমার দৃষ্টিতে এখানে তিন ক্যাটাগরিতে কাজ হয়। প্রথম ক্যাটাগরিতে থাকে গরীব অসহায় রেমিটেন্স পাঠানো পার্টি, দ্বিতীয় ক্যটাগরী ইয়ং জেনেরেশন ও মধ্যবিত্ত পার্টি, আর তৃতীয় ও শেষ ক্যাটাগরিতে(এটার আরেকটা নাম দিছি ভিআইপি ক্যাটাগরী) থাকে উচ্চবিত্ত, সরকারী আমলা, রাজনীতিবিদ, বাহিনী, মডেল,সেলিব্রিটি। দালালদের কাছে প্রথম পছন্দ ক্যাটাগরি-১। ওদের ও তাদের ভিতরের দোষরদের ৭০% ইনকামই হয় এই ক্যাটাগরী থেকে। বাকী ৩০% হয় ক্যাটাগরী-২ ও ৩ থেকে। আমার রিভিউ ক্যাটাগরি-২ নিয়ে।

যেহেতু রিনিউ করতে দিছি সো রিনিউ করার নিয়মটাই আমি বলবো। রিনিউ করার জন্য যা যা লাগবেঃ

১। ফরম- ২ (ডাউনলোড অথবা অফিসের তথ্য সেবা কেন্দ্র থেকেও বিনামূল্যে ফরম নিতে পারবেন। তবে আমি ডাউনলোড ভার্শন প্রেফার করবো।)

২। পাসপোর্ট রিনিউ টাকা জমা দেওয়ার ব্যাঙ্ক স্লিপ। এখানে একটু খেয়াল রাখবেন স্লিপে আপনার নামের বানান ও নাম ঠিক আছে কিনা।অনেকেরেই পাসপোর্ট ফরম নেয় নাই স্লিপে নামের বানান ঠিক নাই সেজন্য। ব্যাংক হিসেবে আমার পছন্দ ঢাকা ব্যাঙ্ক ও ট্রাষ্ট ব্যাংক( আগারগাও শাখা)। ফরমের উপরে আঠা দিয়ে স্লিপ এর উপরের দিকের কিছু অংশ আটকিয়ে নিবেন।

৩। জন্ম নিবন্ধন সার্টিফিকেট ফটোকপি(সত্যায়িত) ও এনআইডি ফটোকপি।

৪। আগের পাসপোর্ট এর ফটোকপি।
অবশ্যই কাগজ জমা দেওয়ার দিন আসল পাসপোর্ট টাও নিয়ে যাবেন।যার পাসপোর্ট সে নিজেও উপস্থিত থাকতে হবে।

৫। যদি আগের পাসপোর্টের কোন কিছু চেঞ্জ করতে চান তবে ঐ সংক্রান্ত কাগজপত্রের সত্যায়িত ফটোকপি।

নিচতলার কাজটা আমি দালালকে ২০০ টাকা স্পিডমানি দিয়ে “ফ্ল্যাশ” গতিতে করায় ফেলছিলাম সো নীচতলার কাজের ব্যাপারে আমার ভালো আইডিয়া নেই। নীচতলার কাজ শেষে আপনাকে যেতে হবে তিনতলার ৩০৫ নং রুমে। ওখানে হালকা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হবে। ওখানে আপনার ফরম ওকে হলে বাইরে দাঁড়ানো গার্ডকে দেখাবেন। উনার কাজ শেষ হলে আপনাকে যেতে হবে ৪০৫নং রুমে। এখানেই আপনার ধৈর্য্য কত তার পরীক্ষা হবে। আমি ১০টায় লাইনে দাঁড়িয়ে ২টায় রুমের ভিতরে ঢুকার সুযোগ পেয়েছিলাম। রিনিউ নূতন পাসপোর্ট সবার জন্যই এক লাইন। আখিরাতের লাইন এর চেয়েও লম্বা হবে চিন্তা করে ধৈর্য্য নিয়ে অপেক্ষা করুন। লাইন কোনভাবেই ভাঙবেন না কিংবা লাইন চুরি করবেন না। তাহলে আর্মি আংকেলরা এসে আপনাকে পিট্টু দিতে পারে। বয়স্ক ও অসুস্থদের অগ্রাধিকার দিবেন।ভিতরে যেয়ে কোন প্রশ্ন জিজ্ঞাস করলে নার্ভাস হবেন না। আমার সামনের একজন ইয়ং জেনেরেশন নার্ভাস হয়ে বাবার নাম ভুলে গেছিল।(নিজের চোখে না দেখলে আমি নিজেও এরকম সত্যি হতে পারে বিশ্বাসই করতাম না।) ওখানে ইমারজেন্সি কন্টাক এড্রেস,থানার নাম বানান এগুলোই সাধারণত জিজ্ঞাস করে থাকে।

পুরা প্রেসেডিউরে আপনি যদি কোন স্পিডমানি খরচ করতে না চান তবে পুরা একদিন নষ্ট এরকম প্ল্যান ও এক বোতল পানি, লেক্সাস বিস্কুট সাথে নিয়ে আসবেন। কারন পুরাটাই লাইনে দাঁড়ানোর খেলা। মূল কাজের টাইম খুবই কম। টাইম নষ্ট হবেই লাইনে লাইনেই। এক্ষেত্রে মেয়েরা একটু বেনেফিসিয়ারী। কারন উনাদের লাইন ছেলেদের মত বিশাল হয় না।আর চেস্টা করবেন আর্লি সকাল সকাল যেতে। অফিস শুরু হয় ৯ টা থেকে। আর ছবি তোলার লাস্ট টাইম মে বি দুইটা পর্যন্ত।

আর যদি লাইনে না দাঁড়িয়ে ক্যাটাগরি-৩ এর সুবিধা নিয়ে পাসপোর্ট নিতে চান তাহলে দালালকে পাসপোর্ট কাগজ দিয়ে দিন। ওরাই আপনাকে ১ ঘণ্টার মধ্যে সবকাজ করে দিবে। এক্ষেত্রে দালালদের রেট পাসপোর্ট প্রতি ২০০০-২৫০০টাকা। ওরা যতই ভুংভাং বুঝাক এর চেয়ে একটাকাও বেশী দিবেন না। দালাল বুঝে কাগজ পত্র দিবেন। ওখানে দালালরূপি বাটপারো আছে। যারা আপনার পাসপোর্ট কাগজ গাপ করে ফেলতে পারে।

বি কেয়ারফুল। আর বুঝে শুনে দালাল ডিল করবেন। আর ব্যাঙ্ক স্লিপ থেকে শুরু করে যা যা দরকারি সবকিছুর এক কপি ফটোকপি রাখবেন বাসায়। আল্লাহ না করুক খারাপ কিছু হলেও যেন ব্যাকআপ ডকুমেন্টস থাকে।

এখন ডিসিশন আপনার পাসপোর্ট কোন পথে করবেন। আর পুরানো পাসপোর্ট কারো কাছে দিয়ে আসবেন না বা বাসায় এসে ফেলেও দিবেন না। অনেক দালালে বলবে পুরানটা স্যার দিয়ে দিতে। মোটেও এই কাজটা করবেন না। এমব্যাসি ফেস করার সময় অনেকসময় নূতনটার সাথে পুরান মেয়াদ শেষ পাসপোর্টো দেখাতে হয় পুরানটায় কোন ভিসা লাগুক আর না লাগুক। আর পাসপোর্ট মেয়াদ পরবর্তী প্রতিবছর এর জন্য মূল টাকার সাথে ৩৪৫/- অতিরিক্ত জরিমানা হিসেবে জমা দিতে হবে। যেমন আমাকে দিতে হয়েছে। সো আমার সাজেশন থাকবে মেয়াদ শেষ হওয়ার ৭-৮ মাস আগেই নূতন পাসপোর্ট করায় ফেলা। অনেকসময় মেয়াদ কম থাকলে এমব্যাসি ভিসা দিতে চায় না।